প্রযুক্তির শক্তিতে কোভিড ধাক্কাতেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার প্রত্যাশা পলকের
কোভিড-১৯ মোকাবেলায় দেশের উদ্ভাবকেরাই দিয়েছে প্রযুক্তি সেবা। ‘ম্যাপ হটস্পট’ এর মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সনাক্তকরণ এবং তা ছড়িয়ে পড়া রোধে কাজে লাগিয়েছে সরকার। নিজেদের প্রোগ্রামারদের তৈরি ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ দিয়ে সফলতার সঙ্গে চলছে টিকাদান কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের মধ্যে লক্ষ্যভেদ করে আইসিটিতে হবে আরো ১০ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান। একই সময়ের মধ্যে দেশের ভৌগলিক সীমারেখার প্রতিটি অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়ে দেশের শতভাগ নাগরিকের জন্য ই-সেবা নিশ্চিত হবে। এর ফলে কেবল আইসিটি খাত থেকেই ৫ বিলিয়ন রপ্তানি আয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
মঙ্গলবার ভার্চুয়াল জিএসএম মোবাইল ৩৬০ সিরিজের এশিয়া প্যাসিফিক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এই অভিপ্রায়ের কথা জানান পলক। বক্তব্যে প্রযুক্তির টেকসই প্রয়োগের মাধ্যমে কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ের মতো, কোভিড উত্তর সময়েও দেশের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি উদ্যোগের মাধ্যমে কোভিড ১৯ সময়ে প্রতিদিনের কার্যক্রম চলমান রাখা গেছে। ফলে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার কম সংখ্যক দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আশা করা যায়, ২০২২ সালের মধ্যেই আমরা আবারো ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবো।
অগ্রসরমান ডিজিটাল সমাজ রূপান্তরের মাধ্যমে আজ দেশে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। মাথাপিছিু আয় বাড়ার ক্ষেত্রে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ায় শীর্ষে; ১৫তম সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। আশা করা যায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৪তম, যোগ করেন পলক।
পলক বলেন, নাগরিক দক্ষতা ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি ও ই-গভর্নমেন্টের সমন্বয়ের ফলে এতোটা দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশের আজকের এই অভাবনীয় ডিজিটাল রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। এসেছে প্রবৃদ্ধি। তৃণমূল পর্যায় থেকে সরকারের গৃহীত অন্তর্ভূক্তিমূলক এ্যপ্রোচের কারণে ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল পাচ্ছেন দেশের প্রতিটি নাগরিক।
পলক আরো জানান, গত চার বছরে দেশের স্টার্টআপগুলো ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে, ফিনটেক, লজিস্টিক এবং ডিজিটাল কমার্স স্টার্টআপদের মাধ্যমে।
জিএসএমএ মহাসচিব ম্যাটস গ্রেনিয়ারের সভাপতিত্বে এই পলিসি লেভেল ফোরামের বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন ডিটিকন এশিয়া প্যাসিফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস ওয়ের এবং সিঙ্গাপুরের যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রী জসেফিন টিও।
বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের ইনফোকম মন্ত্রী জানান, আগামী ২০২২ সালের সিঙ্গাপুরের অর্ধেক মানুষকে ৫জি নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা হবে। পুরো দেশের ৫জি চালু হবে ২০২৫ সালের মধ্যে।